রিপোর্টার: মোঃ ফেরদৌস কিবরিয়া (নয়ন)
সম্পাদক ও প্রকাশক
বাংলাদেশে গত তিনটি নির্বাচনে ‘মিনিমাম ইনভলবমেন্ট’ বা ‘ন্যূনতম অংশগ্রহণ’ ছিল— এমন কর্মকর্তাদের আগামী নির্বাচনে কোনো দায়িত্বে না রাখার ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢালাওভাবে সব কর্মকর্তাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা হলে,
👉 আগামী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করার মতো যোগ্য কর্মকর্তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
👉 এর ফলে প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে বিভাজন ও পক্ষপাতের জন্ম দিতে পারে এই সিদ্ধান্ত।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই ‘বাছবিচারহীন অনাস্থা’ অনেক কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছুক করে তুলছে।
এর ধারাবাহিকতায় আমলাতন্ত্রে বিশৃঙ্খলা ও আস্থাহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
ইসি’র ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কর্মকর্তা বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন –
“সবচেয়ে বিতর্কিত কিংবা পক্ষপাতমূলক হিসেবে যারা চিহ্নিত হবেন তারা বাদ পড়বেন— এটা নিশ্চিত। তবে সিদ্ধান্ত হবে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায়। নির্বাচনে অনেকেই দায়িত্ব পালন করেন, সবাইকে তো বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।”
গোয়েন্দা নজরদারি
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।
উপসংহার
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের এমন উদ্যোগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে যদি তা বাছবিচারহীনভাবে হয়, তাহলে আমলাতন্ত্রে বিভাজন ও আস্থাহীনতা বাড়বে।
অতএব, প্রক্রিয়াটি হতে হবে স্বচ্ছ ও ন্যায্য।
Post a Comment